মেহেদী হাসান রানা, আলীকদম, বান্দরবান।
আলীকদম উপজেলায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর আওতায় হরিণের মাংসসহ এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
একই সঙ্গে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে ক্যান্টিন মোড় চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম নুরুল হাকিম (৩০)। তিনি উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার পিতা হাবিবুর রহমান। স্থানীয়ভাবে তিনি সাধারণভাবে চলাফেরা করলেও গোপনে বন্যপ্রাণীর মাংস পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নয়াপাড়া এলাকা থেকে আলীকদম বাজারে আসার পথে আলীকদম সেনা জোনের ক্যান্টিন মোড় চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এই চেকপোস্টটি আলীকদম উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, মোটরসাইকেল এবং যাত্রীদের তল্লাশি করা হয়ে থাকে।
ওইদিনও দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা সন্দেহজনক আচরণের কারণে নুরুল হাকিমকে থামান এবং তার বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করেন।
তল্লাশির এক পর্যায়ে তার ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। মাংসগুলো বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে বহন করা হচ্ছিল বলে জানা যায়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো বাজারজাত করার উদ্দেশ্যেই আনা হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন ।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হলে তাকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে তাকে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলমের নিকট হাজির করা হলে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ১১ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নুরুল হাকিমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
মামলাটি প্রসিকিউট করেন বন বিভাগের মাতামুহুরি রেঞ্জ অফিসার আব্দুল মালেক। তিনি আদালতে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বন বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, আলীকদম সেনা জোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যান্টিন মোড় চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন যানবাহন, মালামাল ও যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বিশেষ করে বন্যপ্রাণী শিকার, পাচার, মাদক পরিবহন বা চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত তল্লাশি ও তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধও বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি বন্যপ্রাণী শিকার, সংরক্ষণ বা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।














