মেহেদী হাসান রানা, আলীকদম, বান্দরবান
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা আলীকদমে বন্য ভাল্লুকের হামলায় গুরুতর আহত জুমচাষি খাইংদই ম্রো (৫২) আজ সম্পূর্ণ সুস্থ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে নতুন করে জীবন পেয়েছেন তিনি। এই ফিরে আসার পেছনে আলীকদম সেনা জোনের মানবিকতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরলস সহযোগিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫। জুম চাষের সময় হঠাৎ বন্য ভাল্লুকের আক্রমণে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খাইংদই ম্রো। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে সেনা সদস্যরা কোনো সময় নষ্ট না করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তার অবস্থা তখন ছিল ভয়াবহ। ডান চোখ ও কপালের বড় ক্ষত দেখে সবাই শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেনা সদস্যরা তাকে দ্রুত আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে আলীকদম সেনা জোনের মানবিক সহায়তায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয় বান্দরবান সেনানিবাসের এমডিএসে। সেখানে দক্ষ চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
আজ খাইংদই ম্রো হাঁটছেন, হাসছেন, আবার মাঠে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন। চোখে মুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ। তিনি বলেন,“সেনাবাহিনীর লোকজন যদি সেদিন পাশে না দাঁড়াতো, তাহলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। তারা আমাকে নিজের পরিবারের মানুষের মতো দেখেছে।”
তার পরিবারের সদস্যদের চোখেও আনন্দের জল। তারা জানান, চিকিৎসার খরচ, যাতায়াত, সবকিছুতেই সেনাবাহিনী পাশে থেকেছে। শুধু দায়িত্ব নয়, মানুষ হিসেবে যে দায়িত্ব তা পালন করেছে তারা।
এলাকাবাসীরাও আলীকদম সেনা জোনের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিপদের সময়ে সেনাবাহিনী যে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিক আশ্রয় হিসেবেও কাজ করে, এই ঘটনা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।















