বান্দরবানের লামা উপজেলা পাহাড় ও মাতামুহুরী নদী বেষ্টিত এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। ভৌগলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনন্য। পাহাড়, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য লামা এখন অন্যতম গন্তব্য।
সবুজ পাহাড়ের সারি, মেঘে ঢাকা উপত্যকা আর নির্মল বাতাসে ভরপুর এই জনপদ যেন প্রকৃতির আঁকা এক সবুজ কার্পেট। বর্ষায় মেঘে আর শীতে কুয়াশায় মোড়া পাহাড়ি পথ ধরে চূড়ায় উঠলে মনে হয় যেন মেঘের রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্য লামাকে করে তুলেছে স্বপ্নরাজ্য।
মিরিঞ্জা পাহাড়
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচু মিরিঞ্জা পাহাড় লামার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। এখান থেকে দেখা যায় লামা শহর, সবুজ বনানী, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কুতুবদিয়া-মহেশখালী দ্বীপ এবং বঙ্গোপসাগরের ভাসমান জাহাজ। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে রয়েছে টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট, ওয়াকওয়ে ও শিশু পার্ক।
সুখীয়া ও দুঃখীয়া ভ্যালি
মাতামুহুরী নদীর দুই তীরে অবস্থিত সুখীয়া ও দুঃখীয়া পাহাড়। সবুজ বনানী আর সর্পিল নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের হৃদয় জয় করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে মনপ্রাণ হয়ে ওঠে ফুরফুরে।
পাহাড়ি সংস্কৃতি ও জুমচাষ
লামার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকারী। তাদের প্রধান জীবিকা জুমচাষ—একই জমিতে ধান, ভুট্টা, আদা, মরিচসহ নানা ফসল উৎপাদন করা হয়। পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তৈরি বাঁশ-ছনের ‘জুমঘর’ এখন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
রোজেলা: পাহাড়ি খাদ্য ও সম্ভাবনা
জুমে চাষ করা রোজেলা ফল ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। এটি দিয়ে জ্যাম, জেলি ও চা তৈরি হয়। বর্তমানে রোজেলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং প্রসাধনী ও সাবান তৈরিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভ্রমণ নির্দেশনা
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে বা চকরিয়া হয়ে লামায় পৌঁছানো যায়। ভ্রমণে নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র, ভালো গ্রিপের জুতা, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা জরুরি। পাহাড়ি ঝর্ণা বর্ষায় এড়িয়ে চলা উচিত এবং স্থানীয় আদিবাসীদের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন।















