পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, সহাবস্থান, নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
কর্মসূচির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,সম্প্রীতি ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভূমি সমস্যা, বৈষম্য, সহিংসতা ও দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক, মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পাইমং থুই মারমা এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
লিফলেট বিতরণকালে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন,
“পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে বিভেদ, সহিংসতা ও উসকানিমূলক রাজনীতি থেকে দূরে রেখে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পথে এগিয়ে যেতে হবে।”



এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো বিদ্যমান ব্রিটিশ আমলের আইন ও বিধিবিধান পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন, যাতে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটে।
তিনি আরও বলেন, দুঃখিত, পার্বত্য অঞ্চলে পরিচয়ের ক্ষেত্রে ‘উপজাতি’ বা অন্য বিভাজনমূলক শব্দ ব্যবহার না করে সবাইকে বাঙালি/অবাঙালি পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচিত হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমতল ও পার্বত্য জেলাসমূহে সমান নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে জমি ক্রয়-বিক্রয় বা বসবাসের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিককে অযথা হয়রানি বা হিমশিম খেতে না হয়।
লিফলেটে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের পক্ষ থেকে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ, ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধ, বৈষম্যহীন সহাবস্থান, সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।
এছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয় এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক আরও জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় ধারাবাহিকভাবে লিফলেট বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং তা বাস্তবায়নের দাবি জানান।















